পশ্চাতে অনাদি অতীত, সম্মুখে অনন্ত ভবিষ্যৎ ; মাঝে এতদুভয়ের সংযোগসেতুরূপে ক্ষণিক “বর্তমান” প্রতিনিয়ত তিলে তিলে পলে পলে অজ্ঞাত ভবিষ্যতের বুক চিরিয়া দিন রাত্রি ছুটিয়া চলিয়াছে অবিরাম অবিশ্রাম দুর্নিবার গতিতে। জীবনের ঘনঘোর কুঞ্ঝটীকাময় অন্ধ-কারাচ্ছন্ন এই দুর্গম পথে, হে প্রেমময় প্রভো! তুমিই আমার আশ্রয় অবলম্বন ; বিপদে-আপদে, সম্পদে নিরাপদে তুমিই একমাত্র সহায়, সুহৃদ, আত্মীয়, আপনার জন। শুধু তাই নয়, এই জীবন-তরণীর তুমি গতি-মুক্তি, তুমি পরিণাম-পরিণতি, তুমিই কাণ্ডারী।
হে দয়াময়! জীবনের এই বিঘ্ন-সঙ্কুল সুদীর্ঘ গতিপথে যদি দুর্বল প্রাণমন আমার শ্রান্ত বিপর্যস্ত হইয়া পড়ে, তবে তোমার স্নেহসিক্ত অমৃত পরশ বুলাইয়া দিও। অজ্ঞান অহং এর প্রমত্ত অহমিকায় উন্মত্ত হইয়া দুৰ্ব্বদ্ধিবশে যদি কখনও তোমার নিয়ন্ত্রণ উপেক্ষা করিয়া বিপথে ছুটিয়া যাই, তবে হে করুণানিধান! তুমি আমায় ত্যাগ না করিয়া তোমার কাছে ফিরাইয়া লইও। আমি অবোধ জীব, শিশু সন্তান তোমার ; আমার শত অপরাধ, সহস্র দোষত্রুটি মার্জনা করিয়া তোমার শ্রীচরণে স্থান দিও। প্রলোভনের কুহকে ভুলিয়া, তোমার পবিত্র স্মৃতি বিস্মৃত হইয়া যদি পাপের পিচ্ছিল পথে পড়িয়া যাই, তবে হে জীবন-নাথ! করুণা করিয়া তুমি একবার তোমার সুকোমল কোলে তুলিয়া লইও। দুর্বিষহ জ্বালামালায় জ্বলিয়া পুড়িয়া অন্তর যদি ছাই হইয়া যায়, সুতীব্র যাতনা-বেদনায় জীবন যদি কখনও দুৰ্ব্বহ হইয়া উঠে, তবে তোমার সুশীতল করস্পর্শে অন্তরের সমস্ত জ্বালা জুড়াইয়া শান্তি ও সান্ত্বনা দিও।
কি আর বলিব নাথ! তুমি অন্তৰ্য্যামী, আমার অন্তরের নিভৃত চিন্তা-তরঙ্গ, নিতান্ত গোপনীয় ভাবসমূহ সমস্তই তুমি আমার চেয়েও বেশী জান। তাই তোমার শ্রীচরণে শেষ মিনতি— জীবনে-মরণে, শয়নে স্বপনে এই দেহ-মন-প্রাণ দ্বারা যেন তোমারই ইচ্ছা সাধিত হয়, দৈনন্দিন জীবনের প্রতি নিঃশ্বাসপ্রশ্বাসটি যেন নিঃসঙ্কোচে তোমারই আদেশ পালনে ব্যয়িত হয়। প্রাণের সকল তারে আজ তোমারই দিব্য রাগিণী ঝঙ্কারিয়া উঠুক, সমস্ত হৃদয় আজ তোমারই জয়গানে পরিপূর্ণ হউক, জীবনের এই প্রথম যাত্রা পথে তোমার আশ্রিতের এই ক্ষীণ কণ্ঠ মহোল্লাসে তোমার অপার মহিমা বিঘোষিত করুক ।
ওঁ তৎসৎ হরিঃ ওঁ ।

0 Comments