পঞ্চম বল্লী
স্থান—দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ী ও আলমবাজার মঠ ।
বর্ণ — ১৮৯৭ খ্ৰীষ্টাব্দ, মার্চ মাস
দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুরের শেষ জন্মোৎসব — ধর্ম্মরাজ্যে উৎসব-পার্বণাদির প্রয়োজন— অধিকারিভেদে সকল প্রকার লোকব্যবহারের আবশ্যকতা — স্বামীজীর ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্য একটি নূতন সম্প্রদায় গঠন নহে ।
স্বামীজী যে সময়ে ইংলণ্ড হইতে প্রথমবার ফিরিয়া আসেন, তখন আলমবাজারে রামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠিত ছিল। মঠের বাড়ীটাকে লোকে 'ভূতের বাড়ী' বলিত। কিন্তু সন্ন্যাসিগণের সংসর্গে ঐ ভূতের বাড়ী রামকৃষ্ণতীর্থরূপে পরিণত হইয়াছিল। তথায় কত সাধন-ভজন, কত জপ-তপস্যা, কত শাস্ত্রপ্রসঙ্গ ও নামকীর্তন হইয়াছিল, তাহার আর পরিসীমা নাই। কলিকাতায় রাজোচিত অভ্যর্থনা লাভ করিয়া স্বামীজী ঐ ভগ্ন মঠেই অবস্থান করিতে লাগিলেন। আর, কলিকাতার অধিবাসিগণ তাঁহার প্রতি শ্রদ্ধান্বিত হইয়া একমাস কাল থাকিবার জন্য তাঁহার নিমিত্ত কলিকাতার উত্তরে কাশীপুরে গোপাললাল শীলের বাগানবাটীতে যে স্থান নিদ্দিষ্ট করিয়া দিয়াছিলেন, সেস্থানেও মধ্যে মধ্যে আসিয়া অবস্থান করিয়া দর্শনোৎসুক জনসঙ্ঘের সহিত ধর্ম্মালাপাদি করত: তাহাদের প্রাণের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করিতে লাগিলেন।
শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জন্মোৎসব নিকটবর্ত্তী। দক্ষিণেশ্বরে রাণী রাসমণির কালীবাড়ীতে এবার উৎসবের বিপুল আয়োজন হইয়াছে। রামকৃষ্ণসেবকগণের ত কথাই নাই, ধৰ্ম্মপিপাসু ব্যক্তিমাত্রেরই আনন্দ ও উৎসাহের পরিসীমা নাই । কারণ বিশ্ববিজয়ী স্বামীজী শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ভবিষ্যদ্বাণী সফল করিয়া এ বৎসর প্রত্যাবৃত্ত হইয়াছেন। তাঁহার গুরুভ্রাতৃগণ আজ তাঁহাকে পাইয়া যেন শ্রীরামকৃষ্ণ-সঙ্গসুখ অনুভব করিতেছেন। কালীমন্দিরের দক্ষিণে বিস্তৃত রন্ধনশালায় ভোগ প্রস্তুত হইতেছে। স্বামীজী তাঁহার কয়েক- জন গুরুভ্রাতাসহ বেলা ৯টা—১০টা আন্দাজ উপস্থিত হইয়াছেন । তাঁহার নগ্ন পদ, শীর্ষে গৈরিকবর্ণের উষ্ণীষ । জনসঙ্ঘ তাঁহাকে লক্ষ্য করিয়া ইতস্ততঃ ধাবিত হইতেছে—তাঁহার সেই অনিন্দিত রূপ দর্শন করিবে, সেই পাদপদ্ম স্পর্শ করিবে এবং তাঁহার শ্রীমুখের সেই জ্বলস্ত অগ্নিশিখাসম বাণী শুনিয়া ধন্য হইবে বলিয়া। তাই আজ আর স্বামীজীর তিলার্দ্ধ বিশ্রামের সময় নাই। মা কালীর মন্দিরের সম্মুখে অসংখ্য লোক। স্বামীজী শ্রীশ্রীজগন্মাতাকে ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করিলে সঙ্গে সঙ্গে সহস্র সহস্র শির অবনত হইল। পরে ৺রাধাকান্তজীউকে প্রণাম করিয়া তিনি এইবার ঠাকুরের বাসগৃহে আগমন করিলেন। সে প্রকোষ্ঠে এখন আর তিলমাত্র স্থান নাই । ‘জয় রামকৃষ্ণ' ধ্বনিতে কালীবাড়ীর দিঙমুখসকল মুখরিত হইতেছে। শত সহস্র দর্শককে ক্রোড়ে করিয়া বার বার কলিকাতা হইতে হোর্ মিলার কোম্পানীর জাহাজ যাতায়াত করিতেছে। নহবতের তানতরঙ্গে সুরধুনী নৃত্য করিতেছেন। উৎসাহ, আকাঙ্ক্ষা, ধৰ্ম্মপিপাসা ও অনুরাগ মূর্তিমান হইয়া শ্রীরামকৃষ্ণ- পার্ষদগণরূপে ইতস্ততঃ বিরাজ করিতেছে। এবারকার এই উৎসব প্রাণে বুঝিবার জিনিস—ভাষায় ব্যক্ত করিবার নহে !
স্বামীজীর সহিত আগত দুইটি ইংরেজ মহিলাও উৎসবে আসিয়াছেন। তাঁহাদের সহিত পরিচয় শিষ্যের এখনও হয় নাই ।
স্বামীজী তাঁহাদের সঙ্গে করিয়া পবিত্র পঞ্চবটী ও বিশ্বমূল দর্শন করাইতেছেন। স্বামীজীর সঙ্গে এখনও তেমন বিশেষ পরিচয় না হইলেও শিষ্য তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ যাইয়া ঐ উৎসবসম্বন্ধীয় স্বরচিত একটি সংস্কৃত স্তব স্বামীজীর হস্তে প্রদান করিল । স্বামীজীও উহা পড়িতে পড়িতে পঞ্চবটীর দিকে অগ্রসর হইতে লাগিলেন । যাইতে যাইতে শিষ্যের দিকে একবার তাকাইয়া বলিলেন, “বেশ হয়েছে, আরও লিখবে।”
যে-কেউ ওদের দোষ ধরতে যাবে, তাদের নরক হবে।” এইরূপ কথা হইতেছে, এমন সময়ে স্বামী নিরঞ্জনানন্দ গিরিশ ঘোষ মহাশয়ের কাছে আসিলেন এবং একটা থেলো হুক লইয়া তামাক খাইতে খাইতে কলম্বো হইতে কলিকাতা প্রত্যাবৰ্ত্তন-কাল পর্যন্ত ভারতের ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে জনসাধারণ শ্রীস্বামীজীকে যে অপূর্ব্বভাবে আদর-অভ্যর্থনাদি করিয়াছে এবং তিনি তাহাদের যে-সকল অমূল্য উপদেশ বক্তৃতাচ্ছলে বলিয়াছেন, তাহার কতক কতক বর্ণনা করিতে লাগিলেন। গিরিশ বাবু শুনিতে শুনিতে স্তম্ভিত হইয়া বসিয়া রহিলেন।
সেদিন দক্ষিণেশ্বর ঠাকুরবাড়ীর সর্ব্বত্রই একটা দিব্যভাবের বন্যা ঐরূপে বহিয়া যাইতেছিল। এইবার সেই বিরাট জনসঙ্ঘ স্বামীজীর বক্তৃতা শুনিতে উদগ্রীব হইয়া দণ্ডায়মান হইল । কিন্তু বহু চেষ্টা করিয়াও স্বামীজী লোকের কলরবের অপেক্ষা উচ্চৈঃস্বরে বক্তৃতা করিতে পারিলেন না। অগত্যা বক্তৃতার উদ্যম পরিত্যাগ করিয়া তিনি আবার ইংরেজ মহিলা দুইটিকে সঙ্গে লইয়া ঠাকুরের সাধনস্থান দেখাইতে ও শ্রীঠাকুরের বিশিষ্ট ভক্ত ও অন্তরঙ্গগণের সঙ্গে আলাপ করাইয়া দিতে লাগিলেন । ইংরেজ মহিলারা ধৰ্ম্ম- শিক্ষার জন্য তাঁহার সঙ্গে দূর দেশ হইতে আসিয়াছেন দেখিয়া দর্শকগণের মধ্যে কেহ কেহ আশ্চৰ্য্য হইয়া তাহার অদ্ভুত শক্তির কথা বলাবলি করিতে লাগিল ৷
বেলা তিনটার পর স্বামীজী শিষ্যকে বলিলেন, “একখানা গাড়ী দ্যাখ —মঠে যেতে হবে। ” অনন্তর আলমবাজার পর্যন্ত যাইবার ভাড়া দুই আনা ঠিক করিয়া শিষ্য গাড়ী লইয়া উপস্থিত হইলে স্বামীজী স্বয়ং গাড়ীর একদিকে বসিয়া এবং স্বামী নিরঞ্জনানন্দ ও শিষ্যকে অন্যদিকে বসাইয়া আলমবাজার মঠের দিকে আনন্দে অগ্রসর হইতে লাগিলেন । যাইতে যাইতে শিষ্যকে বলিতে লাগিলেন, “কেবল abstract idea ( জীবনে ও কার্য্যে অপরিণত ভাব) নিয়ে পড়ে থাকলে কি হবে ? এইসকল উৎসব প্রভৃতিরও দরকার; তবে ত mass-এর ভেতর এইসকল ভাব ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়বে। এই যে হিন্দুদের বার মাসে তের পার্ব্বণ–এর মানেই হচ্ছে ধর্ম্মের বড় বড় ভাবগুলি ক্রমশঃ লোকের ভেতর প্রবেশ করিয়ে দেওয়া । ওর একটা দোষও আছে। সাধারণলোকে ঐ সকলের প্রকৃত ভাব না বুঝে ঐ সকলে মত্ত হয়ে যায়, আর ঐ উৎসব-আমোদ থেমে গেলেই আবার যা, তাই হয়। সেজন্য ওগুলি ধর্ম্মের বহিরাবরণ, প্রকৃত ধর্ম্ম ও আত্মজ্ঞানকে ঢেকে রেখে দেয়, এ কথা সত্য ।
“কিন্তু যারা ধৰ্ম্ম কি, আত্মা কি, এসব কিছুমাত্র বুঝতে পারে না, তাঁরা ঐ উৎসব-আমোদের মধ্য দিয়ে ক্রমে ধৰ্ম্ম বুঝতে চেষ্টা করে। মনে কর্, এই যে আজ ঠাকুরের জন্মোৎসব হয়ে গেল, এর মধ্যে যারা সব এসেছে তারা ঠাকুরের বিষয় একবারও ভাববে। যাঁর নামে এত লোক একত্রিত হয়েছিল, তিনি কে, তাঁর নামেই বা এত লোক এল কেন—একথা তাদের মনে উদয় হবে। যাদের তাও না হবে, তারাও এই কীৰ্ত্তন দেখতে ও প্রসাদ পেতেও অন্ততঃ বছরে একবার আসবে আর ঠাকুরের ভক্তদের দেখে যাবে। তাতে তাদের উপকার বই অপকার হবে না । ”
শিষ্য। কিন্তু মহাশয়, ঐ উৎসব-কীৰ্ত্তনই যদি সার বলিয়া কেহ বুঝিয়া লয়, তবে সে আর অধিক অগ্রসর হইতে পারে কি ? আমাদের দেশে ষষ্ঠীপূজা, মঙ্গলচণ্ডীর পূজা প্রভৃতি যেমন নিত্যনৈমিত্তিক হইয়া দাড়াইয়াছে, ইহাও সেইরূপ একটা হইয়া দাড়াইবে । মরণ পর্যন্ত লোকে ঐসব করিয়া যাইতেছে, কিন্তু কই এমন লোক ত দেখিলাম না, যে ঐসকল পূজা করিতে করিতে ব্রহ্মজ্ঞ হইয়া উঠিল !
স্বামীজী। কেন ? এই যে ভারতে এত ধর্মবীর জন্মেছিলেন— তাঁরা ত সকলে ঐগুলিকে ধরে উঠেছেন এবং অত বড় হয়েছেন। ঐগুলিকে ধরে সাধন করতে করতে যখন আত্মার দর্শনলাভ হয়, তখন আর ঐ সকলে আঁট থাকে না। তবু লোকসংস্থিতির জন্য অবতার কল্প মহাপুরুষেরাও ঐগুলি মেনে চলেন ।
শিষ্য। লোক-দেখান মানিতে পারেন—কিন্তু আত্মজ্ঞের কাছে যখন এ সংসারই ইন্দ্রজালবৎ অলীক বোধ হয়, তখন তাহাদের কি আবার ঐসকল বাহ্য লোকব্যবহারকে সত্য বলিয়া মনে হইতে পারে ?
স্বামীজী । কেন পারবে না ? সত্য বলতে আমরা যা বুঝি তাও ত relative—দেশকালপাত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন। অতএব সকল ব্যবহারেরই প্রয়োজন আছে অধিকারিভেদে। ঠাকুর যেমন বলতেন, “মা কোন ছেলেকে পোলাও কালিয়া রেঁধে দেন, কোন ছেলেকে বা সাগুপথ্য দেন” – সেইরূপ৷
শিষ্য কথাটি এতক্ষণে বুঝিয়া স্থির হইল । দেখিতে দেখিতে গাড়ী আলমবাজার মঠে উপস্থিত। শিষ্য গাড়ীভাড়া দিয়া স্বামীজীর সঙ্গে মঠের ভিতরে চলিল এবং স্বামীজীর পিপাসা পাওয়ায় জল আনিয়া দিল। স্বামীজী জলপান করিয়া জামা খুলিয়া ফেলিলেন এবং মেজেতে পাতা সতরঞ্চির উপর অর্দ্ধশায়িত অবস্থায় অবস্থান করিতে লাগিলেন ৷ স্বামী নিরঞ্জনানন্দ পার্শ্বে বসিয়া বলিতে লাগিলেন, “এমন ভিড় উৎসবে আর কখন হয় নি। যেন কলকাতাটা ভেঙ্গে এসেছিল।”
স্বামীজী। তা হবে না ? এর পর আরও কত কি হবে !
শিষ্য। মহাশয়, প্রত্যেক ধৰ্ম্মসম্প্রদায়েই দেখা যায় কোন না কোন বাহ্য উৎসব-আমোদ আছেই। কিন্তু কাহারও সঙ্গে কাহারও মিল নাই ৷ এমন যে উদার মহম্মদের ধর্ম্ম, তাহার মধ্যেও ঢাকা শহরে দেখিয়াছি শিয়াসুন্নীতে লাঠালাঠি হয় ।
স্বামীজী। সম্প্রদায় হলেই ওটা অল্পাধিক হবে । তবে এখানকার ভাব কি জানিস্ ? — সম্প্রদায়বিহীনতা । আমাদের ঠাকুর ঐটেই দেখাতে জন্মেছিলেন। তিনি সব মানতেন— আবার বলতেন, “ব্রহ্মজ্ঞানের দিক দিয়ে দেখলে ওসকলই মিথ্যা মায়া মাত্র।”
শিষ্য। মহাশয়, আপনার কথা বুঝিতে পারিতেছি না; মধ্যে মধ্যে আমার মনে হয়, আপনারাও এইরূপে উৎসব-প্রচারাদি করিয়া ঠাকুরের নামে আর একটা সম্প্রদায়ের সূত্রপাত করিতেছেন । আমি নাগ মহাশয়ের মুখে শুনিয়াছি, ঠাকুর কোন দলভুক্ত ছিলেন না। শাক্ত, বৈষ্ণব, ব্রহ্মজ্ঞানী, মুসলমান, খ্রীষ্টান সকলের ধর্ম্মকেই তিনি বহুমান দিতেন ৷
স্বামীজী। তুই কি করে জানলি, আমরা সকল ধর্ম্মমতকে ঐরূপে বহুমান দিই নাই ?
এই বলিয়া স্বামীজী নিরঞ্জন মহারাজকে হাসিতে হাসিতে বলিলেন, “ওরে, এ বাঙ্গাল বলে কি ?”
শিষ্য। মহাশয়, কৃপা করিয়া ঐ কথা আমায় বুঝাইয়া দিন ।
স্বামীজী। তুই ত আমার বক্তৃতা পড়েছিল। কই, কোথায় ঠাকুরের নাম করেছি ? খাঁটি উপনিষদের ধর্ম্মই ত জগতে বলে বেড়িয়েছি।
শিষ্য। তা বটে। কিন্তু আপনার সঙ্গে পরিচিত হইয়া দেখিতেছি, আপনার রামকৃষ্ণগত প্রাণ। যদি ঠাকুরকে ভগবান বলিয়াই জানিয়া থাকেন, তবে কেন ইতরসাধারণকে তাহা একেবারে বলিয়া দিন না ।
স্বামীজী। আমি যা বুঝেছি তা বলছি। তুই যদি বেদান্তের অদ্বৈতমতটিকে ঠিক ধৰ্ম্ম বলে বুঝে থাকিস্, তা হলে লোককে তা বুঝিয়ে দে না কেন ?
শিষ্য। আগে অনুভব করিব, তবে ত বুঝাইব। ঐ মত আমি শুধু পড়িয়াছি মাত্র।
স্বামীজী ৷ তবে আগে অনুভূতি কর্। তারপর লোককে বুঝিয়ে দিবি। এখন লোকে প্রত্যেকে যে এক একটা মতে বিশ্বাস কোরে চলে যাচ্ছে—তাতে তোর ত বলবার কিছু অধিকার নাই । কারণ, তুইও ত এখন তাদের মত একটা ধৰ্ম্মমতে বিশ্বাস করে চলেছিস্ বই ত নয় ।
শিষ্য। হাঁ, আমিও একটা বিশ্বাস করিয়া চলিয়াছি বটে; কিন্তু
আমার প্রমাণ—শাস্ত্র। আমি শাস্ত্রের বিরোধী মত মানি না ।
আমার প্রমাণ—শাস্ত্র। আমি শাস্ত্রের বিরোধী মত মানি না ।
স্বামীজী। শাস্ত্র মানে কি ? উপনিষদ্ প্রমাণ হলে, বাইবেল জেন্দাবেস্তাই বা প্রমাণ হবে না কেন ?
শিষ্য। এইসকল গ্রন্থের প্রামাণ্য স্বীকার করিলেও বেদের মত উহারা ত আর প্রাচীন গ্রন্থ নহে ৷ আবার আত্মতত্ত্ব-সমাধান বেদে যেমন আছে, এমন ত আর কোথাও নাই ৷
স্বামীজী। বেশ, তোর কথা নয় মেনেই নিলুম। কিন্তু বেদ ভিন্ন আর কোথাও যে সত্য নাই, একথা বলবার তোর কি অধিকার ?
শিষ্য। বেদ ভিন্ন অন্য সকল ধর্ম্ম গ্রন্থে সত্য থাকিতে পারে, তদ্বিষয়ের বিরুদ্ধে আমি কিছু বলিতেছি না ; কিন্তু আমি উপনিষদের মতই মেনে যাব৷ আমার এতে খুব বিশ্বাস স্বামীজী । তা কর্, তবে আর কারও যদি ঐরূপ কোন মতে 'খুব’ বিশ্বাস হয়, তবে তাকেও ঐ বিশ্বাসে চলে যেতে দিস্। দেখ বি—পরে তুই ও সে এক জায়গায় পৌঁছিবি । মহিম্নঃস্তবে পড়িস্ নি ?—“ত্বমসি পয়সামর্ণব ইব । ”
১. মহাকবি গিরিশচন্দ্র ঘোষ
0 Comments