নিবেদন (স্বামী শিষ্য সংবাদ)

নিবেদন


 ‘স্বামি-শিষ্য-সংবাদ' প্রকাশিত হইল। দেশ, সমাজ, আচার, নীতি, ধৰ্ম্ম প্রভৃতি যেসকল বিষয়ের কর্তব্যাকর্তব্য অনুধাবন এবং মীমাংসা করিতে যাইয়া মানব-মন সন্দেহে দোলায়মান হইয়া দিঙ নির্ণয়ে অক্ষম হয়, তত্ত্বদ্বিষয় সম্বন্ধে পূজ্যপাদাচাৰ্য শ্রীবিবেকানন্দ স্বামীজীর অলৌকিক দূরদৃষ্টি এবং অসাধারণ বহুদর্শিতা তাঁহাকে কি মীমাংসায় উপনীত করাইয়াছিল, গ্রন্থকার (শ্রী শরচন্দ্র চক্রবর্তী) এই পুস্তকে তাহারই কিঞ্চিৎ পরিচয় দিবার প্রযত্ন করিয়াছেন। শুধু তাহাই নহে, যে শক্তিমান পুরুষের অদ্ভুত প্রতিভা এবং দিব্য চরিত্রবলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্ত্য, উভয় জগতের মনীষিগণই স্তম্ভিত হইয়া অনতিকাল- পূর্ব্বে তাঁহাকে উচ্চাসন প্রদান করিয়াছিলেন, সেই মহামহিম স্বামী শ্রীবিবেকানন্দ লোকচক্ষুর অন্তরালে, মঠে সর্ব্বদা কিরূপ উচ্চভাবে কালক্ষেপ করিতেন, কিরূপ স্নেহে তাঁহার শিষ্যবর্গকে সর্ব্বদা শিক্ষা- দীক্ষাদি প্রদান করিতেন, নিজ গুরুভ্রাতৃগণকে কিরূপ উচ্চ সম্মান প্রদান করিতেন এবং সর্ব্বোপরি নিজ গুরু শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবকে জীবনে-মরণে কিরূপ ভাবে অনুসরণ করিতেন, মধ্যে মধ্যে তদ্বিষয়ের রিচয়ও কিঞ্চিৎ কিঞ্চিৎ প্রদান করা হইয়াছে। আবার স্বামীজীর মতামত লিপিবদ্ধ করিতে অগ্রসর হইবার গুরুতর দায়িত্ব অনুভব করিয়া গ্রন্থকার পুস্তকখানির আদ্যোপান্ত, স্বামীজীর বেলুড় মঠস্থ গুরুভ্রাতৃগণের দ্বারা সংশোধিত করাইয়া লইয়াছেন। গ্রন্থনিবন্ধ বিষয়সকলের স্থানকালাদির নির্ণয়ও যথাসাধ্য বিভাগ করিয়া পুস্তকখানিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করিয়া দেওয়া হইয়াছে। আবার গ্রন্থখানির আদিতে সমগ্র পুস্তকের বিস্তৃত সূচীপত্র এবং গ্রন্থমধ্যস্থ প্রত্যেক অধ্যায়ের প্রারম্ভে তত্তদধ্যায়-নির্ণীত বিষয়সকলের বিস্তারিত বিবরণ দিয়া গ্রন্থনিবন্ধ প্রত্যেক বিষয় সহজে ধরিবার পক্ষে পাঠকের সুবিধা করিয়া দেওয়া হইয়াছে। অতএব গ্রন্থ- খানিকে সর্ব্বাঙ্গ-সম্পূর্ণ করিবার যে বিশেষ যত্ন করা হইয়াছে, ইহা বলা বাহুল্য। পরিশেষে এ স্থলে ইহাও বক্তব্য যে, গ্রন্থকার পুস্তক- খানির সমুদয় স্বত্ব, বেলুড় মঠের অধ্যক্ষের হস্তে ঐবিবেকানন্দের ঐ মঠস্থ স্মৃতি-মন্দির নির্মাণকল্পে নিজ গুরুভক্তি-নিদর্শনস্বরূপ প্রদান করিয়া যশস্বী হইয়াছেন। অলমিতি— 


বিনীত নিবেদক- 

শ্রীসারদানন্দ 


Post a Comment

0 Comments