আত্মজ্ঞান - স্বামী অভেদানন্দ

ভূমিকা

বর্তমান যুগে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে জড়বাদ ও আত্মার অস্তিত্বে অনাস্থা জনসাধারণের মনোরাজ্যে এইরূপ প্রভাব বিস্তার করিয়াছে যে, শিক্ষিত সমাজের অতি অল্পসংখ্যক লোকই অমর আত্মার সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করিতে যত্নবান হইয়া থাকেন। কিন্তু হিন্দুদিগের সনাতন ধৰ্ম্মে ও বেদান্ত দর্শন শাস্ত্রে আত্মজ্ঞান লাভ করাই জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। বেদের অন্তর্গত উপনিষদ্ সমূহে আত্মজ্ঞানের ভূয়সী প্রশংসা করা হইয়াছে। বৈদিক ঋষিগণ আত্মজ্ঞান লাভ করিয়া প্রচার করিয়াছেন যে, উহা দর্শনশাস্ত্র, বিজ্ঞান ও ধর্ম্মের মূল ভিত্তি স্বরূপ। তজ্জন্য আত্মজ্ঞানানুসন্ধিৎসু ব্যক্তি মাত্রেরই আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করিবার প্রথম সোপানস্বরূপ আত্মানাত্ম-বিবেক এবং জড় ও চৈতন্যের পার্থক্য অনুভব করিতে চেষ্টা করা কর্তব্য । 

পরিব্রাজকাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী অভেদানন্দজী মহারাজ আমেরিকা মহাপ্রদেশের নিউ-ইয়র্ক নগরীতে বেদান্ত সমিতি প্রতিষ্ঠিত করিয়া আত্মজ্ঞান বিষয়ে প্রাঞ্জল ইংরাজী ভাষায় যে সকল বক্তৃতা দিয়াছিলেন তাহা পুস্তকাকারে ‘Self-knowledge' নামে উক্ত সমিতি হইতে ১৯০৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হইয়াছে । এই পুস্তকখানি আমেরিকা মহা প্রদেশে বিশেষ সমাদর লাভ করিয়াছে । 

স্বামীজী মহারাজ পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের সাহায়ে ঔপনিষদিক সত্যগুলি কিরূপ হৃদয়গ্রাহী ও সহজবোধ্যভাবে ব্যাখ্যা করিয়াছেন তাহা তাঁহার পুস্তক পাঠক মাত্রেই অবগত আছেন। যাহারা ইংরাজী ভাষায় অনভিজ্ঞ তাঁহাদিগের সুবিধার জন্য উক্ত Self-knowledge পুস্তকের বঙ্গানুবাদ স্বামীজী মহারাজের নিজ তত্ত্বাবধানে এক্ষণে প্রকাশিত হইল । আশা করি পাঠকবর্গ এই অমূল্যরত্নস্বরূপ 'আত্মজ্ঞান’ লাভ করিয়া নিজ অমর আত্মার পরিচয় পাইবেন এবং দেহাত্মবোধ হইতে মুক্ত হইয়া শান্তি ও আনন্দ লাভ করিতে সক্ষম হইবেন। অলমিতিবিস্তারেণ ।


২২ শে ফাল্গুন সন ১৩৪১ 

ইং ৬ই মার্চ ১৯৩৫ বুধবার, শুক্লাদ্বিতীয়া 

প্ৰকাশক 

Post a Comment

0 Comments